ফোবিয়া বা অস্বাভাবিক ভয়

বিভিন্ন ধরনের ফোবিয়া বা অস্বাভাবিক ভয়

কিসে কিসে বা কখন কখন এই অস্বাভাবিক ভয় হয়, তার তালিকা করে শেষ করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন বয়সে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন কারণে এই ভয় হতে পারে। তবে মানসিক সমস্যা ও রোগ বিবেচনায় সহজ করে বর্ণনার লক্ষ্যে ভয়কে কিছু কিছু গ্রুপ বা শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।

স্পেসিফিক ফোবিয়া : নির্দিষ্ট কোনো অবস্থা (উচ্চতা), বস্তু (রক্ত), জীব (মাকড়সা, সাপ) সেই মানুষটিকে এমনই ভয়ার্ত ও তটস্থ করে তোলে যে মানুষটি স্বাভাবিক থাকতে পারে না। নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায়, কাজে ও চিন্তায় সমস্যা হয়।

সোশ্যাল ফোবিয়া : সামাজিক যেকোনো অবস্থা, যেখানে মানুষ অন্যদের পর্যবেক্ষণের আওতায় আসে, সেখানে নিজেকে, তার যোগ্যতা অনুযায়ী প্রকাশ করতে পারে না। কখনো নিয়ন্ত্রণহীন, প্যানিক হয়ে ওঠে। যেমন- বক্তৃতা দেওয়া, সভায় কথা বলা, পরীক্ষার হলে কথা বলা বা যেকোনোভাবে কারো পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকা।

গোরা ফোবিয়া : বিশেষ এই সমস্যায় আক্রান্ত মানুষগুলো একা প্রায় চলতেই পারে না, সব সময় ভাবতে থাকে, কোনো একটা জায়গায় আটকে গেলে কিভাবে তার মুক্তি বা বাঁচার পথ হতে পারে। যেমন- বেশি মানুষ, লিফট, বদ্ধ বা অন্ধকার ঘর। অ্যাগোরা ফোবিয়ায় আক্রান্ত মানুষ ভয়ে অনেক সময় ঘর থেকেই বের হতে চায় না।

স্ট্রেস ডিজঅর্ডারস : হঠাৎ অস্বাভাবিক কোনো ঘটনার মুখোমুখি বা অভিজ্ঞতার ফলে মানুষের মনে যে ভয় তৈরি হয়, সেসবই মানুষের মনে এমন সমস্যা তৈরি করতে পারে। সেই বিশেষ ঘটনাকে মানুষ মনে করতে চায় না, প্রচণ্ড ভয় পায়। রানা প্লাজার ঘটনা, সিডর, ছিনতাইয়ের কবলে পড়া বা যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনার পর মানুষের এমন সমস্যা হতে পারে। অ্যাকিউট স্ট্রেস ডিজঅর্ডার বা পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (পিটিএসডি) একই ধরনের সমস্য।

ডিল্যুশনাল : এই সমস্যাটি মূলত সাইকোসিসের অন্তর্ভুক্ত। এখানে রোগী সন্দেহ করে, তাকে কেউ মেরে ফেলতে পারে, ক্ষতি করতে পারে, তার ওপর কেউ নজর রাখছে, তাকে কেউ দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে, তাই ভয়ে থাকে। যারা নেশা করে, তাদেরও এ সমস্যা হতে পারে। ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব

Tags: , ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *