নকল কসমেটিকস চেনার উপায় , জেনে নিন সবাই

আজকাল বাজারে বিশেষ করে নামিদামি ব্র্যান্ডের লেভের নিচে নিম্নমানের উপাদান দিয়ে তৈরি নকল কসমেটিকস প্রোডাক্টের ছড়াছড়ি । আর এটা এখন কোন গোপন ব্যাপারও না । অনেকগুলো অর্থ ব্যয় করে নকল কসমেটিকস কিনে নিজেকে ভিক্টিম বা বোকা মনে হলেও স্বাস্থ্যের জন্য এই নকল প্রোডাক্টগুলো ক্ষতিকর । এমনিতেই কসমেটিকস প্রোডাক্টগুলোতে কেমিক্যাল থাকে তার উপর যদি নিম্নমানের হয় তবে প্রতিনিয়ত ব্যবহারে স্কিন ডিজিস , অ্যালার্জি এমন কি স্কিন ক্যান্সারের হবার সম্ভাবনা কয়েকগুন বেড়ে যায় । প্রশ্ন হতে পারে তাহলে আমরা চিনব কিভাবে । তাই আজ আপনাদের জন্য নিয়ে এলাম নকল কসমেটিকস চেনার উপায় ।

নিম্নে নকল প্রোডাক্ট চিনে নেবার কয়েকটি আইডিয়া দেওয়া হল –

(১) কিছু নকল প্রোডাক্ট দেখেই আপনি বুঝে যাবেন । কিন্তু আজকাল এমন উপায়ে নকল কসমেটিক তৈরি করা হচ্ছে যা খুব বিচক্ষণতার সাথে পর্যবেক্ষণ না করলে ধরা খুবই মুশকিল । নকল কসমেটিক আইডেন্টিফাই করব কীভাবে ? সহজ উপায় হল , কসমেটিকস ব্র্যান্ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে যে প্রোডাক্টটি কিনবেন তার আসল ‘চেহারাটা’ দেখে নিন । প্রয়োজন হলে একটি ছবিও সাথে রাখুন । কেনার সময় ছবির সাথে ভালো করে মিলিয়ে নিন ।

(২) প্যাকেজিংটা বিচক্ষণতার সাথে পর্যবেক্ষণ করুন । খুব ছোট ছোট ব্যাপারগুলো খেয়াল করুন । ফন্ট , সাইজ এবং প্যাকিজিং কালারটাও মিলিয়ে নিন । এমন কি নকল পণ্যগুলোর ওজনেও ঘাপলা থাকে । যদিও শপে দাড়িয়ে প্রোডাক্টের ওজন মাপা একটু অদ্ভুত লাগতে পারে কিন্তু হাত দিয়ে ধরেও আপনি ওজনটা বুঝতে পারবেন ।

(৩) প্রোডাক্টের গায়ে লিখা সিরিয়াল নাম্বার , বার কোড এবং ম্যানুফ্যাকচারিং ইনফর্মেশনগুলো ভালো করে দেখে নিন । নকল প্রোডাক্ট হয়ে থাকলে বার কোডের প্রথম তিনটি ডিজিট উৎপাদনকারী দেশের কোডের সাথে ম্যাচ করবে না । বেশির ভাগ সময় ফেইক কসমেটিকসের গায়ে সিরিয়াল নাম্বার থাকে না । যদি সিরিয়াল নাম্বার পেয়েও জান তাহলে আবার চোখ বন্ধ করে কিনে ফেলবেন না যেন ! প্রোডাক্টের গায়ে থাকা সেরিয়াল নাম্বরের সাথে প্যাকেটের সিরিয়াল নাম্বার মিলিয়ে নিন । মিলে গেলে তবেই কিনুন ।

(৪) জেনুইন হাই এন্ড কসমেটিক ব্র্যান্ডগুলো প্রোডাক্ট সম্পর্কিত তথ্যগুলো কয়েকটা ভাষায় দিয়ে থাকে । আর একটি ব্যাপার লক্ষ্য রাখবেন , প্রোডাক্টে ব্যবহৃত উপাদানগুলোর উল্লেখ রয়েছে কিনা ।

নকল পণ্য উৎপাদনকারীরা অনেক সময় এমন সব কালারের লিপস্টিক , আইশ্যাডো , ব্ল্যাশ থেকে শুরু করে ব্রাশ , ব্লেন্ডারগুলো এমন সব কালারের তৈরি করে যা রিয়েল ব্র্যান্ডগুলো করেনি । কাজেই কসমেটিক কেনার সময় রিয়েল প্রোডাক্টের কালারের সাথে মিলিয়ে দিন । একজ্যাক্ট কালার মিললে তবেই কিনুন । সেক্ষেত্রে কসমেটিক ব্র্যান্ডের অফিশিয়াল পেজে প্রোডাক্টটি দেখে নিন ।

(৫) অথেনটিক কসমেটিকগুলোতে বিশেষ করে যেগুলো ম্যাট সেগুলোতে কোনরকম অহেতুক স্ট্রং স্মেল এবং স্পার্কেল থাকে না । অন্যদিকে ক্রিমি কসমেটিকগুলোর উপাদানগুলো আলাদা হয়ে যায় না । ফেক লিপ কগুলো দেখতে কম অ্যাট্রাকটিভ এবং কোন না কোন খুত থাকবে ।

(৬) যদি মাশকারার কথা বলি তাহলে জেনুইন ডিজাইনার মাশকারা খুব হালকা সুগন্ধের হয়ে থাকে । যেকোনো কসমেটিক প্রোডাক্ট যদি বাজে গন্ধ অথবা হেভিলি পারফিউমড হয়ে থাকে তবে বুঝে নিতে হবে যে সেটা ফেইক ।

(৭) নকল প্রোডাক্টের শেপেও বেশিরভাগ সময় সমস্যা থাকে । কাজেই প্রোডাক্ট কিনবার আগে সাইজ , শেপ দেখে কিনুন । ডি-ফর্মড প্রোডাক্ট এড়িয়ে চলুন । আইশ্যাডো এবং ব্লাস কেনার সময় টেষ্টার ব্যবহার করবেন অবশ্যই । রিয়েল কসমেটিকগুলো দিনের বেলায় সরে যায় না ।

(৮) জেনুইন লিপস্টিকগুলো স্মুদলি এবং ইভেনলি ঠোঁটে লেগে যায় । ভালো মানের মাশকারাগুলো দেয়ার পর গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে পরে না ।  প্রোডাক্ট কেনার আগে কন্সিস্টেন্সি (ঘনত্ব) দেখে কিনুন । খুব বেশি ঘন বা পাতলা কিনা দেখুন । স্কিনের সাথে ভালোভাবে মিক্স না হলে প্রোডাক্ট কেনা থেকে বিরত থাকুন ।

Tags: , , , ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *