জানার ভুল, Mistake of knowing

ভুল ১ : প্রতিদিন ইসবগুল বা ত্রিফলা ভেজানো পানি পান করি।

ইসবগুল আঁশজাতীয় ভুসি, যা বিপাকক্রিয়া, অম্লের সমস্যা, অন্ত্রের জটিলতা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া ইত্যাদি রোগে বেশ ভালো কাজ করে। তবে কোষ্ঠবদ্ধতার জন্য এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয়। তাই অনেকের ধারণা, এই ভুসি সব সময় ভিজিয়ে পান করলে পেটের সমস্যা থাকবে না। অথচ এটা একেবারেই ভুল ধারণা। দৈনিক ১০ গ্রামের বেশি ইসবগুলের ভুসি খাওয়া ঠিক নয়। অতিমাত্রায় সেবন করলে মলের সঙ্গে বেশি মাত্রায় খনিজ লবণ বের হয়ে যায়, যা শরীরের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। যেমন—জিংক, কপার, ম্যাঙ্গানিজ। আবার অনেক সময় এসব খনিজ লবণ শোষণে বাধা দেয়। এসব খনিজ লবণ আমাদের দেহের অভ্যন্তরে ক্ষত নিরাময় করে কোষ ও হাড়ের সংযোগস্থলে ক্ষয় রোধ করে রক্তের লৌহিত কণিকা তৈরিতে সহায়তা করে। কিন্তু অতিরিক্ত আঁশ অন্ত্রের অভ্যন্তরে বাধা দান করে, ফলে দেহে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়।

Natural Isabgul / Psyllium Husk

ঠিক একইভাবে ত্রিফলা অন্ত্রের মেরামতে সহায়তা করে, খাদ্যনালির দেয়ালের ভেতরের আবরণ পরিষ্কার এবং অন্ত্রের পেশিশক্তি বাড়িয়ে দেহ থেকে মল বের হতে সহায়তা করে। কিন্তু অতিমাত্রায় গ্রহণের ফলে (ত্রিফলাচূর্ণ) আমাদের দেহের অভ্যন্তরে যেসব প্রয়োজনীয় ব্যাকটেরিয়া রয়েছে, তাদের কার্যকারিতা ব্যাহত করে। এ ছাড়া শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা, অ্যালার্জি ইত্যাদি সমস্যা তৈরি করে।

পরামর্শ : যেকোনো ভেষজ খাবার দীর্ঘদিন ধরে  খাওয়া ঠিক নয়। যদি  প্রয়োজন হয়, কিছুদিন বাদ দিয়ে আবার শুরু করা ভালো।

ভুল ২ : মেদ হবে না, তাই ডায়েট কোক পান করি।

অনেকে মনে করেন, কোক ও সেভেন আপ জাতীয় পানীয়তে চিনি আছে, তাই ডায়েট কোক পান করলে তেমন কোনো অসুবিধা হবে না। কিন্তু সাধারণ পানীয়ের চেয়ে ডায়েট কোক অনেক বেশি ক্ষতিকর। কারণ এতে রয়েছে স্যাকারিন, সুকরোল ও এসপারাটেম নামক রাসায়নিক পদার্থ, যা দেহে নানা রোগের সৃষ্টি করে, যেমন—ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, অবসাদবোধ, মাথা ব্যথা, কিডনি সমস্যা ইত্যাদি। এ ছাড়া সাধারণ কোকে যে পরিমাণ ক্যালরি রয়েছে, তার চেয়ে বেশি ক্যালরি রয়েছে ডায়েট কোকে।

পরামর্শ : যেকোনো কার্বোনেট স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো নয়। তাই যত দূর সম্ভব কোকজাতীয় কোমল পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত।

 

ভুল ৩ : তাজা ফলের রস পান করি।

তাজা ফলের রসে প্রচুর পরিমাণ চিনি ও ক্যালরি থাকে, যা বেশি খেলে দ্রুত ওজন বেড়ে যায়। এতে খুব সামান্য পরিমাণ ভিটামিন, খনিজ লবণ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, কিন্তু খাদ্য-আঁশের অনুপস্থিতি লক্ষণীয়। সম্পূর্ণ ফল চিবিয়ে খেলে যকৃৎ সামান্য পরিমাণ ফলের রস বা চিনি শোষণ করে। এতে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু ফলের রসে রয়েছে পর্যাপ্ত গ্লুকোজ, যা সরাসরি যকৃতে শোষিত হয় যেকোনো কোমল পানীয়ের মতোই।

পরামর্শ : সম্পূর্ণ ফলে যথেষ্ট পরিমাণ আঁশ থাকে, যা আমাদের রক্তের চর্বি ও গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। তাই ফলের রসের চেয়ে পুরো ফল চিবিয়ে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *