করোনা: হিসাবের ওঠানামার মুখেও আত্মবিশ্বাসী জাপান

জাপানের রাজধানীতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ চিহ্নিত হওয়ার সংখ্যা ১০০র অনেকটা নিচে নেমে যাওয়ার পর মঙ্গলবার তা আবারও ১০০র কিছু উপরে উঠে এসেছে। তা স্বত্বেও জাপান সরকারের কর্মকর্তারা পরিস্থিতির অগ্রগতি হওয়া নিয়ে আশাবাদী। এই আশার পেছনে আছে একদিনের হিসাব আকাশচুম্বী হয়ে না যাওয়া ও সেই সাথে সংক্রমণ রাজধানী টোকিও সহ অল্প কয়েকটি অঞ্চলে সীমিত থাকা।

টোকিওতে মঙ্গলবার ১১২টি নতুন সংক্রমণ সনাক্ত করা হয়, যে হিসাব হচ্ছে একদিন আগের ৩৯টির চাইতে অনেক বেশি। অন্যদিকে জাপানের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হিসাবে দেখা যায়, মঙ্গলবার সারা দেশে মোট যে ২৭২টি সংক্রমণ সনাক্ত করা হয়েছে। সেই হিসাবে দেশের ৪৭টি জেলার মধ্যে মাত্র ৪টিতে সংক্রমণের সংখ্যা দুই অঙ্কের ওপরে রয়েছে। এই চারটি জেলায় সনাক্ত হওয়া মোট সংক্রমণ হচ্ছে ১৯২টি। বাকি ৪৩টি জেলার হিসাব এর বিপরীতে হচ্ছে ৮০টি। ফলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ক্লাস্টার বা গুচ্ছিভূত হওয়ার জায়গা এখন জাপানে সীমিত হয়ে আসছে এবং সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ কেন্দ্রীভূত আছে রাজধানী টোকিওতে। গতকাল পর্যন্ত জাপানে করোনাভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যুর মোট সংখ্যা ছিল ৪১৩।

এরকম অঞ্চল-ভিত্তিক আপেক্ষিক অগ্রগতি স্বত্বেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে লোকজন আবারও পুরনো জীবনধারায় ফিরে যেতে শুরু করলে প্রায় দিন পনেরো দিনের বিরতিতে ভাইরাস আবারও মারমুখী রূপ নিয়ে ফিরে আসতে পারে। ফলে জনগণের প্রতি সচেতন থাকার আহ্বান তারা জানাচ্ছেন। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা জেনেটিক্সের অধ্যাপক জুন ওহাশি সংবাদপত্রে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মানুষ একে অন্যের সাথে সরাসরি যোগাযোগ কমিয়ে আনা অব্যাহত না রাখলে সবকিছু শেষ পর্যন্ত বিফলে যেতে পারে।

এদিকে গোল্ডেন উইকের দীর্ঘ ছুটি চলতে থাকা অবস্থায় জাপানের জনগণ ঘরে থাকার জন্য কর্তৃপক্ষের জানানো আহ্বানে সারা দিতে শুরু করেছে। তবে উল্টোভাবে আবার দেশের পরিবহণ শিল্প খাতকে এর মাশুল গুনতে হচ্ছে।

করোনাভাইরাস মহামারি ছড়িয়ে পড়া অবস্থায় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল করা বিমানে টিকেট বিক্রি ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। আটদিনের আনুষ্ঠানিক ছুটির সময়ে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে আসন বুকিংয়ের হিসাবে দেখা যায়, মে মাসের ৬ তারিখ পর্যন্ত ১ লাখ ৯২ হাজার ২৫০জন যাত্রী বুকিং দিয়েছেন, যে হিসাব হচ্ছে গত বছরের একই সময়ের চাইতে ৯২.৯ শতাংশ কম। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে পুরো সময়ে বুকিং পাওয়া গেছে মাত্র ১২,৬৭৪টি, যা হচ্ছে এক বছর আগের চাইতে ৯৭.৭ শতাংশ কম। জাপানের প্রধান দুটি বিমান কোম্পানি – জাপান এয়ারলাইন্স ও অল নিপ্পন এয়ারওয়েজের উপর মারাত্মক চাপ এটা সৃষ্টি করছে। এই অবস্থা গোল্ডেন উইকের ছুটির পরে আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকলে সমূহ ক্ষতির মুখে সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন এদের জানাতে হতে পারে।


Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *